আত্নবিশ্বাষ কে আরও বাড়িয়ে দিতে ছেলেবেলায় আপনার মা বাবা আপনাকে নিশ্চয়ই উত়্সাহিত করতেন। শধু নিজের কাছে না আপনার বিশেষত্ব কে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। সে সময় হয়ত আপনি তাদের কথা শুনেছেন কিন্ত গ্রাহ্য করেন নি। কিন্তু এই এসব ইমোশনাল এর মূল্য আজকের এই আধুনিক বিশ্বে নেই। আপ্নার দক্ষতা, আপনার উপার্জন, আপনার কর্মক্ষমতা এই বিষয়সমুহকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। এই চাহিদা সমূহ একটি কোম্পানির ক্ষেত্রেও থাকে। বিশেষ করে, আপনি যখন কোন কম্পানিতে আবেদন করে, যোগ্য প্রার্থী হওয়া স্বত্বেও বাদ বাদ পরে যান, আর আপনার চেয়েও অধিক যোগ্য প্রার্থী হিসেবে চাকরি টি পেয়ে যান। এর প্রধান কারন আপনার উপস্থাপন আরও বেশি অসাধারণ হওয়া চাই, সেই সাথে নিয়োগকর্তা কে উপলব্ধি করতে দিন যে আপনি তার প্রতিষ্ঠানের জন্য মূল্যবান। তবে কিভাবে এই কৌশল অবলম্বন করবেন তা জানতে নিচের লেখটি পড়তে পারেন।
১। সু্যোগ খুজে নিনঃ
এভাবে বলা যেতে পারে, আপনি কোন কম্পানীতে চাকরি সুযোগ খুজছেন আর তার জন্য নিজে থেকে সেই কোম্পানির সব খবর রাখা এবং এই সম্পরকে নিয়োগকর্তার সাথে যোগাযোগ আপনার আগ্রহ কে বাড়িয়ে দেয়। আপনি সহজেই উক্ত কোম্পানির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন। এইক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যম সমুহ অনেক সাহায্য করে থাকে। তাই নিজ উদ্যোগে সুযোগের খবরা খবর পেতে আজই উঠে পড়ে লাগুন ফলে যখনই আপনি কোথাও আবেদন করবেন আপনার নাম পরিচিতি লাভ করবে।
২। শুধু কভার লেটার নয়ঃ
আবেদন করার জন্য প্রত্যেক প্রার্থী কভার লেটার লিখে থাকে, তাই নিজে কে অনন্য করে তুলতে নিজের দক্ষতা, গুনাবলি, আগ্রহের বিষয়, অথবা যে কোন বিষয়ে আপনার পারদর্শিতা অথবা গবেষণা সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরুন, এটা কোম্পানীর জন্য ভাল হবে। জন এফ কেনেডি এই প্রসঙ্গে বলেন, কোম্পানি কি করতে পারে জিজ্ঞেস না করে, আপনি কি করতে পারেন সে সম্পর্কে বলুন।
৩। আভ্যন্তরিন সু্যোগ সম্পরকে জানুনঃ
এই পরামর্শ কিছুটা কৌশলী, কিন্তু কার্যকর। আপনার পছন্দের কোম্পানি তে চাকরিরত আছেন এমন কারো সাথে সু- সম্পরক বজায় রাখুন। সবচেয়ে ভাল হয় আভ্যন্তরিন সুযোগ সুবিধাসমুহ সম্পরকে খোজ রাখতে পারলে। মনে রাখবেন নিয়োগকারি শুধু কভার লেটার আর সিভি পেতে আগ্রহী নয়। আপনার তার সাথে সম্পরকের কতটা উন্নতি হয়েছে, এবং আপনি আপনার কে তার সামনে উপস্থাপন করবেন তার উপর অনেকটাই নির্ভর করে। পারসনাল রেফারেন্স আপনার চাকরি প্রাপ্তিতে অনেকটাই উপকার করবে।
৪। সত্যতা বজায় রাখুনঃ
প্রত্যেকেই সত্য পছন্দ করেন, বিশেষ করে যারা আপনার সাথে কাজ করবেন। আমরা প্রার্থীদের সত্য কথা বলার উপদেশ দেই। তাদের দেখান আপনি গতানুগতিক ভাবে অগ্রসর হন না, আপনার প্রতিভা কে দেখান, আপনার ম্যানেজার কে আপনার আগ্রহ সম্পরকে জানান।
৫। আপনার দক্ষতা প্রদর্শন করুন:
আপনার একটি গোছানো কভার লেটার, সিভি, এবং রেফারেন্স এর মাধ্যমে আপনি অনেকদুর যেতে পারেন। আপনি সাফল্যের দরজায় প্রবেশ করবেন সেই সাথে সাফল্য অর্জন এ পেছনে ফিরে তাকাবেন না। আপনার বিশেষ দক্ষতাকে প্রদর্শন করার জন্যই আবেদন করেছেন তা নিশ্চিত করুন। উদাহরণস্বরুপ, আপনি যদি একজন লেখক হয়ে থাকেন ইন্টারভিউ এর সময় আপনার পোর্টফোলিও টি সঙ্গে রাখুন। আপনার এখিন পর্যন্ত সবচেয়ে চমৎকার অর্জন সম্পরকে আপনার নিয়োগকারী কে বলুন
৬। জিজ্ঞাসা করুনঃ
আপনার ইন্টারভিউ এর সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে নিশ্চই, ইন্টারভিউ এর প্রচলিত প্রশ্নের উত্তর জানার পাশাপাশি আপনি নিয়োগকর্তা কে কি প্রশ্ন করবেন তার ও প্রস্তুতি নিয়ে নিন। ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনার প্রশ্ন, আপনার কোম্পানি সম্পরকে আগ্রহ কে উপস্থাপন করবে, সেই সাথে আপনার এই চাকরি তে নিয়োগ সম্পরকিত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
৭। নিজের কিছু দায়িত্বঃ
আজকের এই আধুনিক যুগে ডিজিটাল প্রোফাইল নেই এমন কাউকে খুজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। অনলাইনের মাধ্যমে আপনার আবেদন নিয়োগকারীর কাছে আপনার সম্ভাব্যতা বেড়ে যায়। এছাড়া ও লিঙ্কডিন এ আপনার একটি প্রোফাইল তৈরি করে রাখতে পারেন যেখানে আপনার সকল তথ্য, পূর্ব কাজের অভিজ্ঞতা, আপনার কাজের দায়িত্ব সম্পরকিত তথ্য সামঞ্জস্য ভাবে সজ্জিত থাকবে।
৮। প্রচেষ্টা রাখুনঃ
আপনার প্রচলিত ইন্টারভিউ এর প্রশ্ন ও এর উত্তর এর বাইরেও নিজের প্রচেষ্টা কে সামনে রেখে চাকরি প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। আরও বেশি সক্রিয় হোন, যাতে করে নিয়োগকারি আপনাকে একজন আদর্শ প্রার্থী মনে করেন। আপনার বিশেষত্ব সম্পর্কে নতুন তথ্য দেয়ার চেষ্টা করুন। কিছু নিয়োগকরতা আছেন যারা হয়ত আপনার কাছ থেকে কিছু শিখতে চাইবেন আর তাই নিজের বিশেষত্ব দিয়ে কিছু শেখানোর চেষ্টা করুন।
৯। আগ্রহ প্রকাশ করুনঃ
নিয়োগকর্তাগন তাদের চাকরি ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে গর্বিত হয়ে থাকেন। শুধু বেতনের জন্য চাকরি করেন এমন নিয়োগকর্তা খুযে পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। আর তাই নিয়োগের জন্য এমন প্রার্থী খুজেন যাদের সত্যিকার অর্থে এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার জন্য আগ্রহ আছে। আপনার আগ্রহ কে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে আজই ভালভাবে প্রস্তুতি পর্ব শুরু করুন।
১০। বাস্তব উত্তর দিনঃ
নিয়োগকর্তা জানতে চান আপনি এই কোম্পানির জন্য কি করতে পারবেন? যেমনটি জন এফ কেনেডি এর উদ্ধৃতির কথা মনে করিয়ে দেয়। কোনও সংস্থাকে আপনি কি দিতে পারেন তা জিজ্ঞাসা করবেন না (অন্তত প্রথমে না) বরং তা দেখান যা আপনি তাদের দিতে পারেন। আপনার সম্ভাব্য মান প্রদর্শন এর সেরা উপায়সমুহ কে উপস্থাপন করুন। কেবলমাত্র আপনার দৈনন্দিন দায়িত্ব সম্পর্কে বলুন, তাদের দেখান যে কীভাবে আপনি কোম্পানির একটি বিন্দু থেকে শুরু করে কোথায় যেতে সক্ষম। এক্ষত্রে আপনার পরিসংখ্যান ব্যবহার করতে পারেন, সংখ্যাগত তথ্য আপনার দক্ষতা সম্পরকে সঠিক ধারনা দেবে।
১১। ফলো আপ ঃ
ইন্টারভিউ এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ফলো আপ। সবচেয়ে ভাল হয় আপনি যখন ই-মেইল এর মাধ্যমে যোগাযোগ করবেন। ইন্টারভিউ এর পর ই-মেইল কোম্পানির কাছে গ্রহনযোগ্যতা বাড়িয়ে তোলে। ইন্টারভিউ এর ১ সপ্তাহ পরঈ আপনি ই-মেইল এর মাধ্যমে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনার সংক্ষিপ্ত মেইল অথবা একটি সুন্দর ফোন কল ই যথেষ্ট।
ইন্টারভিউ মোকাবেলার জন্য এই কৌশল ই একমাত্র উপায় নয়। আপনাকে সুন্দরভাবে শুরুটা করতে হবে আপনার জায়গা থেকে। ইন্টারভিউ এর পূর্বে আপনার সুসম্পন্ন প্রস্তুতি নিশ্চিত করুন। যদি স্বপ্নের চাকরী খুজে পেতে এবং নতুন চাকরির খোজ পেতে এখনই এভারজবস এ ভিজিট করুন ।
C: Everjob