Skill Jobs Forum

Career Counseling, Self Development, Skill Enhancer => Career Growth & Self Development => Topic started by: jihad on April 07, 2014, 07:04:29 PM

Title: ১০টি বদঅভ্যাসের কারণে আপনার কর্মোদ্যম নষ?
Post by: jihad on April 07, 2014, 07:04:29 PM
১০টি বদঅভ্যাসের কারণে আপনার কর্মোদ্যম নষ্ট হচ্ছে কি?
(http://www.kalerkantho.com/assets/images/news_images/2014/04/05/image_69544.2013-07-25_11;26;02.jpg)


কাজের ক্ষেত্রে আপনার কর্মোদ্যম যতো বেশি হবে আপনি ততো সফল হবেন। আপনার প্রত্যেকটি কাজ করার জন্য প্রয়োজন এ কর্মোদ্যমের। কিন্তু কোনো কারণে আপনার কর্মোদ্যম কি নষ্ট হচ্ছে? এক প্রতিবেদনে কর্মোদ্যম নষ্ট করার মতো ১০টি বিষয় তুলে ধরেছে বিজনেস ইনসাইডার।
মিলিয়ে দেখুন তো, এ ১০টি অভ্যাসের জন্য আপনার কাজের অসুবিধা হচ্ছে, আর উদ্যম হারিয়ে ফেলছেন কি না?
১. অতিরিক্ত ভবিষ্যতের চিন্তা
অনেক মানুষই তাদের ভবিষ্যতের চিন্তায় বিভোর থাকেন। যখন তাদের বর্তমান অবস্থার দিকে মনযোগ দেওয়ার কথা, তখন যদি ভবিষ্যতের চিন্তায় বিভোর হয়ে থাকা হয়, তাহলে বাস্তবে উৎপাদনশীলতা কমে যায়। প্রত্যেকের নিশ্চয়ই দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করা উচিত। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সব সময় সেই চিন্তায় বিভোর থাকতে হবে। প্রত্যেক দিনের সময়সূচি সতর্কতার সঙ্গে তৈরি ও তার প্রয়োগ করতে হয়। ভবিষ্যতের জন্য একটি পরিকল্পনা করা জরুরি। এর পর প্রত্যেকদিন ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় কমপক্ষে একটি কাজ করা যেতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে ভবিষ্যৎ একটি অনিশ্চিত বিষয়।
২. সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরি
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি খুব সহজেই পিছিয়ে দেওয়া যায়। তবে এ কাজটি আপনার ক্যারিয়ারের জন্য ভালো নাও হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সিদ্ধান্ত নিতে মানুষ যত দেরি করে তত উৎপাদনশীলতা কমে যায়। সাধারণত মানুষ সঠিক কোনো সমাধান না জানলে অথবা আলসেমির কারণে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করতে পারে।
৩. প্রযুক্তির প্রভাব
প্রযুক্তি ঠিকভাবে ব্যবহার করলে তা আপনার জীবনকে সহজ করে দেবে ও উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে দেবে। তবে ঠিকভাবে একে ব্যবহার করতে না পারলে তার বিপরীত অবস্থা তৈরি হতে পারে। প্রযুক্তির ব্যবহারে আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট হতে পারে। এসব সমস্যার মধ্যে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং দীর্ঘ সময় নিয়ে বন্ধুদের স্ট্যাটাস ও পোস্ট পড়া।
এসব সমস্যা কাটিয়ে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করার নানা উপায় আছে। এভারনোটের মতো ?প্রোডাক্টিভিটি টুল? ব্যবহার করা যেতে পারে আপনার দৈনন্দিন কাজ সাজিয়ে নেওয়ার জন্য।
প্রযুক্তিগত যত বেশি পণ্য আপনি ব্যবহার করবেন, আপনার জীবন তত বেশি জটিল হয়ে উঠবে।
৪. একসঙ্গে অনেক কাজ করা
আপনি নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্য একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ করতে পারেন। এতে মনে করতে পারেন আপনার উৎপাদনশীলতা বাড়ছে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। একসঙ্গে যত বেশি কাজ করার চেষ্টা করবেন, তত ধীর হয়ে যাবেন আপনি। এর ফলে আপনার কোনো লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে এবং নানা ডেডলাইন মিস করবেন।
সম্প্রতি গবেষকরা জানিয়েছেন, মানুষের মস্তিষ্ক মাল্টিটাস্কিং বা একসঙ্গে অনেকগুলো কাজের জন্য উপযুক্ত নয়। এতে মানুষ ধীরে কাজ করে এবং উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হয়।
৫. ?পারফেকশনিস্ট? হবেন না
অনেকেই প্রজেক্ট সম্পূর্ণ করার পরও দেরি করেন সেটা ?নিখুঁত? নয়, এ চিন্তায়। এভাবে অনেকের নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে যায়। এ কাজটি করার আগে চিন্তা করতে হবে যে, কোনোকিছুই নিখুঁত নয়। তার বদলে নির্দিষ্ট সময়ে কাজটি সম্পূর্ণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বহু মানুষ মিলে একটি নথি বারবার দেখতে থাকার মধ্যে কোনো স্বার্থকতা নেই। তার বদলে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী কতো সময় লাগিয়ে কয়বার নথিটি দেখা হবে তা ঠিক করাই ভালো।
৬. প্রথমবারেই কাজটি করতে সফল না হলে
কোনো প্রকল্প শুরু করে প্রথমবারে যদি আপনি সম্পূর্ণ প্রচেষ্টা না চালান তাহলে এটি ব্যর্থ হতে পারে। এতে দ্বিতীয়বার কাজটি করার মতো অবস্থা তৈরি হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে আপনার সময় যেমন নষ্ট হবে তেমন কাজের ক্ষেত্রে আপনার সৃষ্টিশীলতাও নষ্ট হবে। এতে আপনার ইমেজ যেমন নষ্ট হবে তেমন কাজেও হয়ে পড়বেন ধীর।
৭. অতিরিক্ত ?হ্যাঁ? বলা ক্ষতিকর
বহু কর্মোদ্যমী মানুষকে প্রায়ই ?না? বলতে দেখা যায়। ই-মেইলে আসা প্রত্যেক মানুষের সাহায্যের অনুরোধ আপনি যদি রক্ষা করতে না পারেন, তাহলে তা জানিয়ে দিন। অফিসের সবাইকে সহায়তা করা আপনার পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। কারণ আপনার সময় অত্যন্ত মূল্যবান। একে উৎপাদনশীল কাজে ব্যয় করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আপনার ধারণার চেয়েও মানুষ বেশি বোঝে। আপনার অবস্থা সবাইকে বুঝিয়ে বলুন।
৮. ভুল খাবার খাওয়া
আপনার খাওয়ার অভ্যাসের ওপর দিনের কার্যসূচির অনেক কিছুই নির্ভর করে। আপনি যদি ?জাংক ফুড? খেতে অভ্যস্ত হন তাহলে তা যেমন আপনার শরীরের ওপর প্রভাব ফেলবে, তেমন তা আপনার কর্মোদ্যমও নষ্ট করবে।
প্রতিদিন আপনি খাদ্য তালিকায় যত বেশি স্বাস্থ্যকর খাবার রাখবেন কাজের ক্ষেত্রে আপনি তত বেশি উদ্যম পাবেন। স্বাস্থ্যকর খাবারের এ অভ্যাসটি সব সময় ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
৯. ভুল জিনিসে ভয় পাওয়া
অন্যরা আপনার বিষয়ে কি চিন্তা করছে তা নিয়ে না ভাবলেও চলবে। অবশ্যই আপনার কাজের মূল্যায়ন অন্যদের কাছ থেকে পাওয়ার আশা করবেন। কিন্তু কিছু মূল্যায়ন খারাপ হবেই। এসব নিয়ে সারাক্ষণ চিন্তা না করলেও চলবে।
অবস্থাভেদে কোনো কাজ সবার মনযোগ আকর্ষণ করতে পারবে না বা সবার প্রিয় হবে না। তার মানে এই নয় যে, সে জন্য সবকিছু থামিয়ে দিতে হবে। নিজের কাজ বিষয়ে সঠিক চিন্তা এবং সঠিক বিষয়ে মনযোগ দেওয়া জরুরি।
১০. অভিযোগ করা ভালো নয়
আপনার দিকে আসা নানা সমস্যার বিষয় সম্পর্কে অভিযোগ করে অন্যকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলা ভালো নয়। তার চেয়ে সব সমস্যার সমাধান করে নিজের একটা ভালো ?সমস্যার সমাধানকারী? ইমেজ গড়ে তোলাই সবচেয়ে ভালো।
আপনি যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তার সমাধান করার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, সবাই সমস্যায় পড়ে।
সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার