বন্ধু যখন বস- কিভাবে রক্ষা করবেন সম্পর্ক?(http://www.priyo.com/files/story/201311/Friend-Boss.jpg)
সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধুটি যখন আপনার বসের পদে অধিষ্ঠিত হয় তখন বন্ধুত্বের উজ্জ্বল সম্পর্কটি কেমন যেন নিস্তেজ হয়ে যায়। অনেকের পক্ষেই বন্ধুকে বস হিসেবে মেনে নেয়া সম্ভবপর হয়ে উঠে না। সামান্য কারনেই ফাটল ধরে বন্ধুত্বের মত বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্কেও। যতই বলা হোক বন্ধু বন্ধুর জায়াগায়, কাজ কাজের জায়গায় কিন্তু এই সত্যটি মেনে নেয়া কঠিন হয়ে যায় অনেকের জন্যই। হিংসা হয় বন্ধুর সাফল্যে। নিজ থেকেই দূরে সরে যান বন্ধুর কাছ থেকে।
আবার অন্যদিকে আপনি যখন বসের চেয়ারে বসেন তখন যেন আপন বন্ধুটি আর আপন থাকে না আপনার কাছে। বস সুলভ মনোভাব নিয়ে কথা বলে হেয় করে থাকেন নিজের বন্ধুটিকেই। আপনা আপনিই বন্ধুত্বের সৌন্দর্য শেষ হয়ে যায়। সম্পর্কে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। কিন্তু কেন? আপনার বন্ধুটি তার নিজের যোগ্যতায় সফল হয়েছেন। এতে বন্ধুত্ব কেন ভেঙে যাবে আর কেনই বা সৃষ্টি হবে দূরত্বের? কাজের ক্ষেত্র আর বন্ধুত্ব কি আসলেই আলাদা রাখা সম্ভব নয়? অবশ্যই সম্ভব। আলাদা রাখুন বন্ধুত্বের সম্পর্ক আর কর্মক্ষেত্রের সম্পর্ক। বজায় রাখুন বন্ধুত্ব।(http://imgcdn.priyo.com/201312/BtJXj-OaHgyFInpJguTgKDl72eJkfbmt4t8yenImKBVvK0kTmF0xjctABnaLJIm9.jpg)
মেনে নেয়ার চেষ্টা করুন
দু বন্ধু একসাথে একই পদে কোন কর্মক্ষেত্রে ঢুকে থাকলে সব সময় একই চিত্র থাকবে এমনটি ভাবার কোন আবশ্যকতা নেই। সময় পরিবর্তনশীল। বন্ধুটি বস হয়ে গেলে আপনার সাথে অন্যায় করা হয়েছে এমনটি ভাবার কোন কারন নেই। মানুষ তার নিজের যোগ্যতায় ওপরে উঠে। আপনার বন্ধুটিও তার নিজস্ব যোগ্যতায় উন্নতি করেছেন।
অপরদিকে, নিজে বস হয়ে নিজের বন্ধুটিকে জুনিয়র পদে মেনে নিন। আপনি এখন বস, তার সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকা ঠিক নয়, এই ধরনের মনোভাব পরিহার করুন। কর্মক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব বজায় রাখুন। এবং সাধারন জীবনে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে শিখুন। কর্মক্ষেত্রের বাইরেও আপনাদের একটি সুন্দর সম্পর্ক আছে তা মাথায় রাখুন।
ঈর্ষান্বিত ও নাকউঁচু ভাব পরিহার করুন
বন্ধুকে উন্নতি করতে দেখে ঈর্ষান্বিত হওয়ার কোন কারন নেই। সে আপনার বন্ধু। তার উন্নতিতে তাকে অভিনন্দনের সাথে মেনে নিন। আপনার বন্ধু আপনার থেকে কম কর্মঠ, সে অন্যায় পথ অবলম্বনে পদের উন্নতি করেছেন এইসব ভাববেন না বা সমালোচনা করবেন না। যদি আপনার মনে হয় আপনার সাথে অন্যায় হয়েছে এবং আপনার বন্ধুটি আসলেই তার পদের যোগ্য নন, তাহলে এর পেছনের কারন খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন অথবা নতুন কোন চাকরি খুঁজুন। বন্ধুত্বের ভাঙন কোন কিছুর সমাধান নয়। ঈর্ষান্বিত হয়ে কোন ভুল কাজ করবেন না। বন্ধু বস হয়ে ভালোই হয়েছে। আপনাকে কাজে সহযোগিতা করতে পারবে এবং আপনিও বন্ধুত্ব পূর্ণ আচরন পাবেন এই ধরনের ইতিবাচক মনোভাব রাখুন।
আপনি বস হলেও আপনার বন্ধুর সামনে নাক উঁচু ভাব দেখাবেন না। তাকে ছোট করে তার মনে কষ্ট দিয়ে কোন কথা বলবেন না। কথায় কথায় তাকে মনে করিয়ে দেবেন না যে বর্তমানে আপনি তার বস। অযথা ক্ষমতা ফলাতে যাবেন না। পেশাদারি কায়দায় যতটুকু সাহায্য প্রয়োজন ততোটুকু সাহায্য বন্ধুটিকে করুন।
ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না
অফিসে বন্ধুর বস সুলভ আচরন ব্যক্তিগত ভাবে নেবেন না। আপনি যে অফিসেই কাজ করতে যান না কেন আপনার বস ন্যায়সঙ্গত ভাবেই আপনাকে যে কোন কাজ করতে বলতে পারেন অথবা যে কোন কাজের ভুল ধরে কথা বলতে পারেন। যদি এই বসটি আপনার বন্ধু হয় তাহলেও ঘটনাটি একই থাকে। শুধুমাত্র আপনার নিজের মনোভাবের পরিবর্তনে ব্যাপারটি ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে যেতে পারে। এই ভুলটি করবেন না। যদি আপনাকে কোন কাজ করতে বলা হয় তখন ভেবে বসবেন না আপনার বন্ধু আপনাকে হুকুম দিচ্ছেন। অথবা যদি আপনার কাজে ন্যায়সঙ্গত ভুল ধরা হয় তবে ভাববেন না আপনার বন্ধু আপনাকে ছোট করার জন্য ভুল ধরছেন। আপনার বন্ধুকে বস হিসেবে তার প্রাপ্য সম্মান দিন।
আর আপনি যদি বস হন তবে বস হিসেবে বন্ধুর ওপর অন্যায় কোন কিছু করার মনোভাব বর্জন করুন। বন্ধুত্বগত সম্পর্কের রেশ ধরে রাগ, ক্ষোভ ইত্যাদি প্রকাশ করবেন না। জুনিয়র বন্ধুটি কোন ভুল করে থাকলেও তা সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সাথে ঠিক করে দিন। মনে রাখবেন বন্ধু বন্ধুই। অফিস শেষে এই বন্ধুর সাথেই ব্যক্তিগত অনেক কিছুই আপনার ভাগাভাগি করে নেয়া হয়।(http://imgcdn.priyo.com/201312/friends-with-boss.jpg)
অফিসের বাইরের সম্পর্ক ঠিক রাখুন
অফিসের ব্যবহার এবং অফিসের বাইরের ব্যবহার এক নয়। কারন আপনারা বন্ধু। আর বন্ধু বন্ধুই এবং বস বসই, এই দুটো সম্পর্ক আলাদা রাখার চেষ্টা করুন। বন্ধুদের আড্ডায় অফিসের কথা বা কোন ঘটনা টেনে আনবেন না। বন্ধু অফিসে জুনিয়র তাই বলে আপনি অফিসের বাইরেও তার ওপর অধিকার ফলাতে যাবেন না। এতে সম্পর্ক খারাপ হবে। এবং এর রেশে অফিসের পরিবেশ খারাপ ধারন করবে। অফিসে যেমন পেশাদার সম্পর্ক রাখবেন ঠিক তেমনি অফিসের বাইরে বন্ধুত্বের সম্পর্ক রাখবেন। দুটো একসাথে মিশিয়ে ফেলবেন না আবার যে কোনো একটি সম্পর্কে জোর দেবেন না।
অফিসের বস-কর্মচারী সম্পর্ক বেশিদিনের নয়। যে কেউ অন্য চাকরীতে চলে গেলেই এর সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে। কিন্তু বন্ধুত্বের সম্পর্ক চিরদিনের। যদি না আপনি নিজে থেকে ভেঙে ফেলেন। সব সময় নিজের দায়িত্ব পালন করবেন বন্ধু হিসেবেও ও বস কিংবা কর্মচারী হিসেবেও। তাহলেই দুটো সম্পর্কের সমন্বয়ে আপনার কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবন দুইই সফল হবে।Source: http://goo.gl/X0V9Ic