Author Topic: সম্পদের পরিমাণ কত হলে কোরবানি ওয়াজিব?  (Read 404 times)

mostafijur15-7863

  • Newbie
  • *
  • Posts: 18
দীর্ঘদিন নিঃসন্তান থাকার পর আল্লাহ নবী ইব্রাহীম (আঃ) কে দান করেছিলেন একটি পুত্রসন্তান। সেই আদরের পুত্র ইসমাঈলকেই আল্লাহ্’র আদেশে কোরবানি দিতে উদ্যত হয়েছিলেন। আল্লাহ নবীর আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে পুত্রের বদলে তাকে পাঠান একটি পশু। ঈমানের পথে ত্যাগের এই মহান ঘটনাকে স্মরণ করে আজও মুসলিম উম্মাহ’র প্রতিটি ঘরে পালিত হয় ঈদুল আজহা।

ঈদুল আজহার অবিচ্ছেদ্য অংশ কোরবানি। কিন্তু সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষদের মধ্যে কারা আসলে কোরবানির জন্য সক্ষম হিসেবে বিবেচিত?

কোরবানির সক্ষমতারে মাপকাঠি ধরা হয় নিসাবকে। নিসাবের অর্থ হলো, সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ বা এর সমমূল্য কিংবা সাড়ে ৫২ তোলা রূপা কিংবা তার সমমূল্যের সম্পদ থাকা। তবে কুরবানি আবশ্যক হতে এ পরিমাণ সম্পদ পূর্ণ ১ বছর থাকা শর্ত নয়।

এই নিসাব নির্ধারণ করে কার উপর কোরবানি ওয়াজিব, কার উপর নয়। নিচের নিয়মাবলী দিয়ে কোরবানি কারা দিতে পারবেন- তা নির্ধারিত হয়।

- পারিবারিক ব্যয় নির্বাহের জন্য যে পরিমাণ জমি বা ফসলের (খাদ্য-শস্য) দরকার; সে পরিমাণ থেকে অতিরিক্ত জমি বা ফসলের মূল্য অথবা যে কোনো একটির মূল্য যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মূল্যের সমান হয়, তাহলেও ওই ব্যক্তির জন্য কুরবানি করা আবশ্যক।

- পরিবারের সব সদস্যের যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকানা থাকে তবে সবার ওপরই কুরবানি করা আবশ্যক।

- গরিব ব্যক্তি যদি কুরবানির নিয়তে কুরবানির পশু ক্রয় করে তবে ওই ব্যক্তির ওপর কুরবানি সম্পন্ন করা আবশ্যক।

- কোনো ব্যক্তি স্বচ্ছল হোক অস্বচ্ছল হোক কুরবানির মান্নত করলে তা আদায় করাও আবশ্যক।

- কোনো ব্যক্তি যত বেশি সম্পদের মালিক হোক না কেন, তার জন্য একটি কুরবানিই আবশ্যক। সম্পদ বেশি বলে একাধিক কুরবানি আদায়ের কোনো বিধান নেই। তবে একাধিক কুরবানিতে রয়েছে অধিক সাওয়াব।

সর্বোপরি, যাদের ওপর ফিতরা দেয়া আবশ্যক; তাদের জন্য কুরবানি আদায় করাও আবশ্যক। অতএব প্রত্যেক স্বাধীন, প্রাপ্ত বয়স্ক, নিসাব পরিমাণ সম্পদে মালিক, সুস্থ নারী-পুরুষের জন্য কুরবানি আদায় করা আবশ্যক।

সাংসারিক খরচ মেটানের পর জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই কুরবানি করা আবশ্যক হবে।



source: www.somoynews.tv